ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ , ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পীরগঞ্জে ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস: শিক্ষার মান, জবাবদিহি ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-১২ ০৯:২১:৫৮
পীরগঞ্জে ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস: শিক্ষার মান, জবাবদিহি ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন পীরগঞ্জে ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস: শিক্ষার মান, জবাবদিহি ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
পীরগঞ্জ রংপুর প্রতিনিধিঃ


রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসিদাখিল পরীক্ষার ফলাফলে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। উপজেলার ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একজন পরীক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে দুটি উচ্চ বিদ্যালয় ও ১০টি দাখিল মাদ্রাসা। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ছাতুয়া দাখিল মাদ্রাসা, অনন্তরামপুর দাখিল মাদ্রাসা, কুমরসহি দাখিল মাদ্রাসা, পত্নীচড়া দাখিল মাদ্রাসা, মদনখালী দাখিল মাদ্রাসা, বড় আলমপুর দাখিল মাদ্রাসা, ছোট উজিরপুর দাখিল মাদ্রাসা, গন্ধর্বপুর দাখিল মাদ্রাসা, খেদমতপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, জুনিদপুর দাখিল মাদ্রাসা, কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং ঘাষিপুর উচ্চ বিদ্যালয়।


অন্যদিকে, গুর্জিপাড়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শতভাগ হলেও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থী সংকট ও দুর্বল ফলাফল দেখা দিলে তার কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মূল্যায়ন এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কার্যকারিতা—সবকিছুই পর্যালোচনার আওতায় আনা উচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীসংখ্যা কম হলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারি অর্থ ব্যয় অব্যাহত রয়েছে। ফলে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জিত না হলে সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে মনে করছেন তারা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দুর্বল ফলাফলের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে এনে শিক্ষার মান উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীসংখ্যা, ফলাফল ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল অবস্থায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।


বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল সন্তোষজনক নয়, তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। তাই শূন্য পাসের ঘটনা কেন ঘটছে, তার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ